HAZRA SABBIR HOSSAIN

Soldier

Blogs

Wake Up

Posted on December 20, 2013 at 10:15 PM

আর কত ঘুমিয়ে থাকবে? এবার তো জেগে ওঠ!

১৪ ডিসেম্বর ২০১৩; ১:৪৫ am

 

বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী ফ্রিজ হেইদার ও ম্যারিয়্যান সিমেল গত শতকের ৪০ এর দশকে গবেষণা করেন মানুষের মনের ওপর ক্রিয়ার উপলব্ধি ও তার ব্যাখ্যা নিয়ে। তারা কিছু ব্যক্তিকে কিছু চলমান চিত্র দেখান, যাতে কেবল কিছু জ্যামিতিক আকৃতি যেমন-ত্রিভুজ, বৃত্ত ইত্যাদি চলাচল করতে থাকে। প্রদর্শনের পরে প্রদর্শিত দৃশ্য বর্ণনা করতে বলা হলে তারা জ্যামিতিক নক্সার এই চলাচলের মাঝে ‘পরিকল্পনা’, ‘অনুসরণ’, ‘পলায়ন’, ইত্যাদি খুঁজে পান। জ্যামিতিক নক্সাগুলো বর্ণিত হয় ঙ্কল্পিক বার্তা হিসেবে। ঘটনা ব্যাখ্যায় অনুমানের প্রবণতা দেখা যায় মানুষের মাঝে প্রবল।ক্রিয়ার ব্যাখ্যায় অদৃশ্য কর্তায় মানুষের বিশ্বাসপ্রবণতা কেবল ধারণাই নয়, এর গবেষণামূলক ভিত্তি বিদ্যমান। কিন্তু, কি কারণে মানুষ এই বিশ্বাসপ্রবণ হয়ে ওঠে? এরও কি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে? নাকি যুক্তির যথেষ্ট আশ্বাসের অভাবে আমাদেরকে আবার সেই অনুমানের চক্রে ফিরে যেতে হবে? তা শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানেন।

শিক্ষা জীবনের অনেকগুলো স্তর পার করে এসেছি যার কোন স্তরেই বিশদভাবে বিজ্ঞানচর্চার সুযোগ হয় নি, শুধু তাই নয়, কখনো ইচ্ছেও হয় নি। কিন্তু আজ একবার মানুষের বিশ্বাস প্রবণতা নিয়ে বৈজ্ঞানীক ব্যাখ্যা খুঁজতে ইন্টারনেটে অবতীর্ণ হয়েছি। বেশ কিছু গবেষণা প্রবন্ধ পড়ে আমি সন্তুষ্ট হবার বদলে বার বার হতবুদ্ধি হয়ে যাচ্ছি। প্রতিটি প্রবন্ধেই মানুষের বিশ্বাস প্রবণতার পরীক্ষামূলক অস্তিত্ব প্রমাণিত, কিন্তু কেন মানুষ বিশ্বাস করে তার বিজ্ঞান সম্মত কোন কারণ আবিষ্কৃত হয় নি। তাই বলে তো সারা বিশ্বের গবেষকদের ধিক্কার দিতে পারি না, করার মধ্যে এ মুহূর্তে ‘এ বিশ্বাস সৃষ্টিকর্তাই দিয়ে দিয়েছেন আমাদের মাঝে’ বলে আমি ক্ষান্ত হতে পারি।

মানুষের বিশ্বাস প্রবণতা নিয়ে গবেষণা করা আমার লক্ষ্য নয়, এই বিশ্বাস প্রবণতা নিয়ে গজিয়ে ওঠা জমজমাট ব্যবসাই আমার আলোচ্য বিষয়। ছাত্র জীবনে ব্যবসায় প্রশাসনের ছাত্র হবার দরুন ব্যবসায় বিষয়টির প্রতি আমার বিশেষ অনুরাগ রয়েছে। তাই সাধারণ ব্যবসায়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাওয়া এই ব্যবসায়ের গতি প্রকৃতিও আমাকে করেছে অনুরক্ত। তবে কিছু দিন ধরে এই ব্যবসায়ের গতি ও প্রকৃতি সম্প্রতি বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের মত দিক পরিবর্তন করেছে ঠিকই, কিন্তু গতির দিক থেকে মহাসেনের সঙ্গে বিভেদের সৃষ্টি করেছে, যা আমার অনুরাগকে প্রগাড় ভীতির দিকে প্রবাহিত হতে বাধ্য করছে।

মানুষের বিশ্বাস নিয়ে ব্যবসা হয়ে আসছে সেই সৃষ্টির আদি থেকে, যদিও অনেকের মতে অবিশ্বাসের সূত্র ধরেই মানব জাতির সৃষ্টি, আবার অন্যভাবে বলতে গেলে শয়তানকে বিশ্বাসের অপরাধে মানব জাতি আজ পৃথিবীতে রাজত্ব করছে। এই কথায় বিশ্বাসীরা সন্দেহাতীতভাবে মেনে নিতে পারে যে, মানুষের বিশ্বাস নিয়ে ব্যবসা হয়ে আসছে মানবজাতি সৃষ্টির শুরু থেকে। আমি নিজেও এই গোত্রেরই একজন। আমার বিশ্লেষণ অনেকের কাছেই অগ্রহণযোগ্য মনে হতে পারে, তবে আমার বিশ্লেষণের তাৎপর্য যারা অনুধাবন করতে পারবেন তারা খুব সহজেই আমার সাথে একমত হতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস। কারণ সবকিছুর পেছনে থাকা শয়তানের মনবাঞ্ছনা কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুরন হয়েছেই। সেখানে অর্থের বিনিময় না থাকায় সাধারণ ব্যবসায়ের নিয়মে না পড়লেও তা অসাধারণের মাত্রাও অতিক্রম করেছে বলে মানতেই হবে।

যুগে যুগে বিশ্বাস নিয়ে ব্যবসা কি প্রকারান্তে বিস্তার লাভ করেছে তা নিয়েও হয়েছে নানান রকম গবেষণা। সেই গবেষণার হাত ধরে জানা গেছে, ধর্ম ব্যবসাইয়ের নামে ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্দেশ্য পুরনের জন্য জনসাধারনের বিশ্বাস, আবেগ, আনুভুতি, সত্ত্বার সাথে ধোকাবাজী করে যাচ্ছে অনবরত; শুধু স্থান, কাল ও পাত্র বিশেষে এর স্বরূপ, প্রকৃতি আর ব্যবসায়ীরা ভিন্ন হয়ে থাকে। বিশ্বাসের এই ব্যবসা ধর্মের হাত ধরে মানব সমাজে আসলেও সত্যিকার অর্থে ধর্মকে দায়ী করার কোন কারণই নেই। বিশ্বে যে ধর্মগুলো প্রচলিত আছে এবং যারা এদের অনুসারী তাদের কথাই যদি ভাবি, তাহলে আমরা দেখব, ওই ধর্মের মৌলিক শিক্ষা এত কল্যাণমুখী, এত জীবনমুখী, এত প্রেমময়, এত নৈতিক গুরুত্বে ভরপুর, যা সুস্থ মস্তিস্কে অবিশ্বাস করাই কষ্টকর, এটাইত আমাদের বিশ্বাসের স্তম্ভ। পৃথিবীর এমন কোন ধর্ম খুঁজে পাওয়া যায় না বা কেউ বের করতে পারবে না, যে ধর্ম মানুষকে হিংসা-বিদ্বেষ শিক্ষা দেয়। কোনো ধরনের অন্যায় আচরণকে কোনোভাবে সমর্থন করার সামান্যতম সুযোগ নেই কোনো ধর্মে। আর আমার এই বিশ্বাসের সাথে কারো সাথে সমঝোতায় যেতে আমি রাজী নই, তা কেউ গ্রহণ করুক বা না করুক। তবে আমার লেখার তাৎপর্য সুস্থ মস্তিষ্কের কোন মানুষই অগ্রাহ্য করতে পারবে না বলে আমার বিশ্বাস। জনসাধারনের বিশ্বাস, আবেগ, আনুভুতি নিয়ে খেলা করার জন্য এই ধর্ম ব্যবসায়ীদের আবার আলাদা পোশাক থাকে। সব ব্যবসায়ীকেই তার ব্যবসার কল্যাণে নানান সময় নানান বেশ ধরে থাকতে হয়। এই পোশাকটা এমন হয় যাতে সহজেই টার্গেট সাধারনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়।বাংলাদেশ যেহেতু সংখ্যাগরিষ্টের দিক দিয়ে ইসলামী রাষ্ট্র তাই ধর্ম ব্যবসায়ীরা নিজেদের পোশাক হিসেবে বেছে নেয় পাঞ্জাবি, টুপি আর দাড়িকে। এই প্রেক্ষাপটে সৈয়দ ওয়ালিউল্লার ‘লাল সালু’ র কাহিনী বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। ব্যবসার সুবিধার্থে শুধু পোশাকই নয় এই চতুর ব্যবসায়ীরা শুরু করে জোট বাধতে। যে রকমভাবে সকলের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য অনেক দেশ মিলে ব্যবসায়ীক জোট করে, শ্রমিকরা করে শ্রমিক ইউনিয়ন ঠিক তেমনি এই ব্যবসায়ীরাও জোট করেছে যুগে যুগে দেশে দেশে। আর এর সুযোগ যে খোদ ব্রিটিশরাও নিয়েছে, তা হয়তো এ উপ-মহাদেশের কেউই অস্বীকার করতে পারবে না। এই ধর্মের ধজ্জাদারী জোটগুলো হয়ে ওঠে পরাক্রমশালী, হবেই বা না কেন, আমরা যে জুটে যাই পরম নির্ভরতা আর বিশ্বাসের সাথে নিজেকে নিজের জীবনকে সপে দিয়ে তাদের সেবায়। কেউ জানতেও চাই না তারা যা বলছে তার সঙ্গে সত্যের কোন প্রকার সম্পর্ক আছে কিনা, আর জানতে চাইবোই বা কেন? আমরা তো বাস করছি বিশ্বাসের মায়াবী চক্রব্যূহয়ের ভেতরে, যেখান থেকে বের হবার কোন উপায় নেই, সব কিছু জানার-বোঝার কপি রাইট যে দিয়ে দিয়েছি এসব ব্যবসায়ীদের হাতে।

রাসুল (সা.)কে একবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল— কে সত্যিকারের মুসলমান? তিনি বলেছিলেন— ‘যার হাত ও মুখ থেকে অন্য মানুষ নিরাপদ।’ আমরা কজন নিজেকে মুসলমান দাবি করতে পারি? আমাদের হাত ও মুখ থেকে অন্য মানুষ নিরাপদ? আমরা এ দাবি করতে পারি না। কারণ আমরা নামে মুসলমান। ইসলামের যে সত্যিকারের শিক্ষা, সেটা আমাদের অন্তরে প্রবেশ করেছে তা কিন্তু দাবি করতে পারি না। এ দেশে সংখ্যালঘু হলেও উপ-মহাদেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী কিন্তু হিন্দু ধর্মাবলম্বী। হিন্দু ধর্মের সম্বোধন হচ্ছে— ‘নমস্কার’। এর অর্থ: ‘আপনার ভেতর যে ঈশ্বর আছেন তার কাছে আমি মাথানত করছি।’ আমি যদি জানি, আপনার ভেতর ঈশ্বর আছেন তাহলে আমি কী করে আপনাকে ঘৃণা করতে পারি বা আঘাত করতে পারি? ‘নমস্কার’ শব্দের অর্থ কি হিন্দুধর্মালম্বী সবাই জানেন? মুসলমানরা সম্বোধনের সময় বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম’— আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। উত্তরে বলা হচ্ছে, ওলাইকুম উস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ ওয়া বারকাতুহু— আপনার ওপরও শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। ইসলামের শিক্ষা হচ্ছে, আপনি সবসময় শান্তি কামনা করছেন। ইসলামের অন্তর্নিহিত তাত্পর্য হচ্ছে— সবার মঙ্গল কামনা করা। আমরা কি সত্যি সত্যি সবার মঙ্গল কামনা করছি? সালাম দেয়া ও তার উত্তর দেয়া; সবই তো তাহলে লোক দেখানো। সত্যিই আমি যদি মঙ্গল কামনা করি, শান্তি কামনা করি, তাহলে আমি কি অন্যের মাথার ওপর আঘাত করতে পারি? পারি না। ইহুদি ধর্মের দশটা শিক্ষা আছে— এটাকে বলা হয় ‘টেন কম্যান্ডমেন্টস’ বাংলায় বলে ‘দশ অনুজ্ঞা’। অন্য ধর্মাবলম্বীরা হয়তো এটাকে বিশ্বাস করবে না। তবে ইহুদি, মুসলিম এবং খ্রিস্টানরা বিশ্বাস করবে— মুসা নবী তূর পাহাড়ে বা সিনাই পাহাড়ে গিয়েছিলেন, আল্লাহর নির্দেশ তখন একেবারে আগুনের ফুলকি হয়ে পাথরের ওপরে লেখা হয়ে এসেছে। এ দশটি অনুজ্ঞার শিক্ষার ব্যতিক্রম একজন ইহুদির পক্ষে করা উচিত নয়। এর মধ্যে ষষ্ঠ অনুজ্ঞা হচ্ছে— ‘কাউকে হত্যা করো না’। কথাটি যদি ইহুদিরা মানত, তাহলে কি ফিলিস্তিনের মুসলমানদের ওপর নির্যাতন করতে পারত? তারা কি মানুষ হত্যা করতে পারত? ইহুদিদের কাছে একজন অতি শ্রদ্ধেয়, সম্মানী ব্যক্তি হিল্লেলের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ‘তাওরাত অনেক দীর্ঘ, যা আমরা পড়তেও পারব না, বুঝতেও পারব না। আপনি সংক্ষেপে এক লাইনে যদি বলে দেন ইহুদি ধর্মের মূল শিক্ষাটা কী, তাহলে আমাদের জন্য ভালো হয়।’ তিনি বলেছিলেন, ‘অন্যে যে আচরণ করলে তুমি কষ্ট পাও, সে আচরণটা তুমি অন্যের সঙ্গে করো না।’ এটাই ইহুদি ধর্মের মূল শিক্ষা। আজ ইহুদিরা কি হিল্লেলের কথাটা মানে? মানে না। খ্রিস্ট ধর্ম প্রেম, ক্ষমা ও ভালোবাসার ধর্ম। যিশু খ্রিস্টের শিক্ষা হলো— তোমাকে যে ক্ষতি করে তাকেও তুমি ভালোবাসো। কাউকে ঘৃণা করো না, কাউকে ক্ষতি করো না। খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারীরাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পারমাণবিক বোমা ফেলেছিল। যেখানে এমন একটা সময়— জাপান যুদ্ধে হেরে যাচ্ছে এবং আত্মসমপর্ণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখন পারমাণবিক বোমা ফেলা হলো। এটা ফেলতে যে অনুমতি দিয়েছিল, যে পাইলট এটি নিক্ষেপ করেছিল— সবাই খ্রিস্টান ছিল। এরা কি যিশু খ্রিস্টের সত্যিকার অনুসারী হতে পারে? না কি তারা খ্রিস্ট ধর্মের কলঙ্ক? এইসব প্রশ্নের উত্তরের কোন অপেক্ষা নেই। উদাহরণগুলো হয়তো সামান্যতম হলেও প্রত্যকের মনে এক নতুন ভাবোদয়ের সৃষ্টি করবে। নিজের মনের কাছে প্রশ্ন জাগতে পারে, আমরা কি ঘুমিয়ে আছি?

হ্যা, আমরা তো ঘুমিয়েই আছি। আমি আগেই বলেছি মানুষের বিশ্বাস নিয়ে ব্যবসার গতি ও প্রকৃতি দুটোরই পরিবর্তন হয়েছে। এখন আর এ ব্যবসা করতে বিশেষ পোশাক পরতে হয় না, করতে হয় না কোন জোট, শুধু নামের সামনে পেছনে কিছু বিশেষণ হলেই ব্যবসায় ইচ্ছুক যে কেউ এই ব্যবসায় ভাল করতে পারবে। পারবেই বা না কেন, আমরা যে আছি। যুগে যুগে অন্ধ বিশ্বাসের অভ্যাস করতে গিয়ে আমরা এর অনুগত ক্রেতা (Loyal customer) হয়ে গেছি। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের একজন অধ্যাপকের বিশেষ অনুরক্ত এক ছাত্রের সাথে পরিচয় হয়েছিল ইন্টার সার্ভিস সিলেকশন বোর্ডে (ISSB)। চারদিন এক গ্রুপে একসাথে থাকার সুবিধার্থে তার কাছেই শুনেছিলাম তার স্যারের জ্ঞানের মহিমা। মনে মনে খানিকটা অনুরক্ত হয়েছিলামও বটে। গেল কদিন আগে একটা টিভি আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি নিজেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একজন বিশ্লেষক হিসেবে জাহির করে বললেন, “আমাদের এখন চীনের সাথে বন্ধুত্ব করা দরকার, নিউক্লিয়ার অস্ত্র তৈরি ও মজুদ করা দরকার।“ এটি বলার পর অনুষ্ঠানটির সঞ্চালিকা সময়ের অজুহাত দেখিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করেন। আমার মনে হয় না, তিনি ভুলে গেছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতিসংঘে অন্তর্ভুক্তিতে চীনের ভূমিকা, আর তিনি জানেন না নিউক্লিয়ার অস্ত্রের মত ভীতি প্রদর্শক অস্ত্রের মজুদ বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের জন্য কি ভয়াবহ হতে পারে? যে কাজের জন্য ইরানের মত দেশকে প্রায় একঘরে করে রাখা হয়, সে কাজ যে বাংলাদেশের মত দেশের করা উচিত নয়, তা বুঝতে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞ হতে হবে, তা আমি মনে করি না। তবে কেন তিনি এমনটি করলেন? আমরা কিছু বুঝি না, আমরা বুঝি না যে তিনি কোন বিশেষ গোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করতে চেয়েছেন। তবে বুঝতে চেষ্টা করলে হয়তো বুঝতে পারবো, কোন না কোন সময় তিনি এর পুরষ্কার পাবেন।

“দেশের সর্বোচ্চ আইন হচ্ছে সংবিধান, সংবিধানের সাথে সংঘর্ষিক সকল আইন অযোগ্য বলে গণ্য হবে”, এটি জেনেছিলাম ব্যবসায় আইন পড়তে গিয়ে। খুব কষ্ট হয়, মাঝে মাঝে আইনের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারীদের মুখে যখন দেশের আইনের বেইজ্জতি হতে দেখি এই বলে যে মানবতা বিরোধী অপরাধীর জেল কোডের সুবিধা দেওয়া হয় নি বলে তারা ন্যায় বিচার পান নি। আমার মনে হয় না যে, তারা সংবিধানের ৪৭(৩) অনুচ্ছেদ পড়েননি, তবু তারা এমনটি বলেছেন। আমি আইনজ্ঞ নই বা নই আমি আইনের ছাত্র। তাই ৪৭(৩) অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা দিতে চাই না। যে কোন লাইব্রেরীতে মাত্র ৪০ টাকার বিনিময়ে দেশের সর্বোচ্চ আইন কিনতে পাওয়া যায়।

কষ্টের সাথে মাঝে মাঝে হাসিও পায় এই ব্যবসায়ীদের দ্রুত নিজের বিশেষণ পরিবর্তন করতে দেখে। এইতো সেদিন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিবিসির এক সংলাপে আইনের একজন সুপ্রসিধ্য অধ্যাপককে রাজনীতি ও সংবিধান নিয়ে তার যুক্তিতর্ক প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হতে দেখলাম। লক্ষ্য করে দেখলাম তার নামের নিচে লেখা আছে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কিন্তু পরিচিতদের জানা মতে তিনি আন্তর্জাতিক নদী বিশেষজ্ঞ। তিনি অনেক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতেই পারেন তাতে আমার কোন দ্বন্দ্ব নেই। তবে পোশাকের মত স্থান বিশেষে নিজের বিশেষজ্ঞ সাইনবোর্ডটি বদল করা তার ব্যবসা সুলভ আচরণ ছাড়া কিই বা বলা যেতে পারে।

প্রতি বছর আমাদের দেশে সনদধারী লোকের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু শিক্ষিত লোকের সংখ্যা বাড়ছে না। আমরা অনেক বড় বড় ডিগ্রি অর্জন করছি। কিন্তু শিক্ষা বলতে যা বোঝায়, সে শিক্ষা আমাদের অন্তরে প্রবেশ করছে না। আমরা ডিগ্রিধারী, সনদধারী কিন্তু শিক্ষিত না। আমাদের জানার বোঝার ইচ্ছা এখন প্রায় শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে। তাইতো আমাদের মাথায় বারবার টুপি পরিয়ে দেদারছে ইচ্ছেমত ব্যবসায়ীক ফায়দা লুটছে একদল মানুষ। আজ যদি আমরা জেগে থাকতাম, তাহলে আমরা অন্যায়কে ‘অন্যায়’, সত্যকে ‘সত্য’ বলে ভাবতাম। না জেনে না বুঝে আরেকজনের মাথায় আঘাত করতে পারতাম না, ঘৃণা করতে পারতাম না।


প্রকাশিতঃ দৈনিক ইত্তেফাক,ঢাকা, বুধবার, ০৮ জানুয়ারি ২০১৪, ২৫ পৌষ ১৪২০

অনলাইন লিঙ্ক 

Categories: Aticles, Education, Politics

Post a Comment

Oops!

Oops, you forgot something.

Oops!

The words you entered did not match the given text. Please try again.

Already a member? Sign In

2 Comments

Reply Hazra Sabbir Hossain
11:44 PM on December 22, 2013 
Nowsin Amin says...
vai kobe theke suru korlen???

বেশ আগে থেকে, তবে বাংলাতে নতুন।
Reply Nowsin Amin
10:07 PM on December 22, 2013 
vai kobe theke suru korlen???