HAZRA SABBIR HOSSAIN

Soldier

Blogs

Wake Up

Posted on December 20, 2013 at 10:15 PM Comments comments (2)

আর কত ঘুমিয়ে থাকবে? এবার তো জেগে ওঠ!

১৪ ডিসেম্বর ২০১৩; ১:৪৫ am

 

বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী ফ্রিজ হেইদার ও ম্যারিয়্যান সিমেল গত শতকের ৪০ এর দশকে গবেষণা করেন মানুষের মনের ওপর ক্রিয়ার উপলব্ধি ও তার ব্যাখ্যা নিয়ে। তারা কিছু ব্যক্তিকে কিছু চলমান চিত্র দেখান, যাতে কেবল কিছু জ্যামিতিক আকৃতি যেমন-ত্রিভুজ, বৃত্ত ইত্যাদি চলাচল করতে থাকে। প্রদর্শনের পরে প্রদর্শিত দৃশ্য বর্ণনা করতে বলা হলে তারা জ্যামিতিক নক্সার এই চলাচলের মাঝে ‘পরিকল্পনা’, ‘অনুসরণ’, ‘পলায়ন’, ইত্যাদি খুঁজে পান। জ্যামিতিক নক্সাগুলো বর্ণিত হয় ঙ্কল্পিক বার্তা হিসেবে। ঘটনা ব্যাখ্যায় অনুমানের প্রবণতা দেখা যায় মানুষের মাঝে প্রবল।ক্রিয়ার ব্যাখ্যায় অদৃশ্য কর্তায় মানুষের বিশ্বাসপ্রবণতা কেবল ধারণাই নয়, এর গবেষণামূলক ভিত্তি বিদ্যমান। কিন্তু, কি কারণে মানুষ এই বিশ্বাসপ্রবণ হয়ে ওঠে? এরও কি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে? নাকি যুক্তির যথেষ্ট আশ্বাসের অভাবে আমাদেরকে আবার সেই অনুমানের চক্রে ফিরে যেতে হবে? তা শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানেন।

শিক্ষা জীবনের অনেকগুলো স্তর পার করে এসেছি যার কোন স্তরেই বিশদভাবে বিজ্ঞানচর্চার সুযোগ হয় নি, শুধু তাই নয়, কখনো ইচ্ছেও হয় নি। কিন্তু আজ একবার মানুষের বিশ্বাস প্রবণতা নিয়ে বৈজ্ঞানীক ব্যাখ্যা খুঁজতে ইন্টারনেটে অবতীর্ণ হয়েছি। বেশ কিছু গবেষণা প্রবন্ধ পড়ে আমি সন্তুষ্ট হবার বদলে বার বার হতবুদ্ধি হয়ে যাচ্ছি। প্রতিটি প্রবন্ধেই মানুষের বিশ্বাস প্রবণতার পরীক্ষামূলক অস্তিত্ব প্রমাণিত, কিন্তু কেন মানুষ বিশ্বাস করে তার বিজ্ঞান সম্মত কোন কারণ আবিষ্কৃত হয় নি। তাই বলে তো সারা বিশ্বের গবেষকদের ধিক্কার দিতে পারি না, করার মধ্যে এ মুহূর্তে ‘এ বিশ্বাস সৃষ্টিকর্তাই দিয়ে দিয়েছেন আমাদের মাঝে’ বলে আমি ক্ষান্ত হতে পারি।

মানুষের বিশ্বাস প্রবণতা নিয়ে গবেষণা করা আমার লক্ষ্য নয়, এই বিশ্বাস প্রবণতা নিয়ে গজিয়ে ওঠা জমজমাট ব্যবসাই আমার আলোচ্য বিষয়। ছাত্র জীবনে ব্যবসায় প্রশাসনের ছাত্র হবার দরুন ব্যবসায় বিষয়টির প্রতি আমার বিশেষ অনুরাগ রয়েছে। তাই সাধারণ ব্যবসায়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাওয়া এই ব্যবসায়ের গতি প্রকৃতিও আমাকে করেছে অনুরক্ত। তবে কিছু দিন ধরে এই ব্যবসায়ের গতি ও প্রকৃতি সম্প্রতি বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের মত দিক পরিবর্তন করেছে ঠিকই, কিন্তু গতির দিক থেকে মহাসেনের সঙ্গে বিভেদের সৃষ্টি করেছে, যা আমার অনুরাগকে প্রগাড় ভীতির দিকে প্রবাহিত হতে বাধ্য করছে।

মানুষের বিশ্বাস নিয়ে ব্যবসা হয়ে আসছে সেই সৃষ্টির আদি থেকে, যদিও অনেকের মতে অবিশ্বাসের সূত্র ধরেই মানব জাতির সৃষ্টি, আবার অন্যভাবে বলতে গেলে শয়তানকে বিশ্বাসের অপরাধে মানব জাতি আজ পৃথিবীতে রাজত্ব করছে। এই কথায় বিশ্বাসীরা সন্দেহাতীতভাবে মেনে নিতে পারে যে, মানুষের বিশ্বাস নিয়ে ব্যবসা হয়ে আসছে মানবজাতি সৃষ্টির শুরু থেকে। আমি নিজেও এই গোত্রেরই একজন। আমার বিশ্লেষণ অনেকের কাছেই অগ্রহণযোগ্য মনে হতে পারে, তবে আমার বিশ্লেষণের তাৎপর্য যারা অনুধাবন করতে পারবেন তারা খুব সহজেই আমার সাথে একমত হতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস। কারণ সবকিছুর পেছনে থাকা শয়তানের মনবাঞ্ছনা কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুরন হয়েছেই। সেখানে অর্থের বিনিময় না থাকায় সাধারণ ব্যবসায়ের নিয়মে না পড়লেও তা অসাধারণের মাত্রাও অতিক্রম করেছে বলে মানতেই হবে।

যুগে যুগে বিশ্বাস নিয়ে ব্যবসা কি প্রকারান্তে বিস্তার লাভ করেছে তা নিয়েও হয়েছে নানান রকম গবেষণা। সেই গবেষণার হাত ধরে জানা গেছে, ধর্ম ব্যবসাইয়ের নামে ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্দেশ্য পুরনের জন্য জনসাধারনের বিশ্বাস, আবেগ, আনুভুতি, সত্ত্বার সাথে ধোকাবাজী করে যাচ্ছে অনবরত; শুধু স্থান, কাল ও পাত্র বিশেষে এর স্বরূপ, প্রকৃতি আর ব্যবসায়ীরা ভিন্ন হয়ে থাকে। বিশ্বাসের এই ব্যবসা ধর্মের হাত ধরে মানব সমাজে আসলেও সত্যিকার অর্থে ধর্মকে দায়ী করার কোন কারণই নেই। বিশ্বে যে ধর্মগুলো প্রচলিত আছে এবং যারা এদের অনুসারী তাদের কথাই যদি ভাবি, তাহলে আমরা দেখব, ওই ধর্মের মৌলিক শিক্ষা এত কল্যাণমুখী, এত জীবনমুখী, এত প্রেমময়, এত নৈতিক গুরুত্বে ভরপুর, যা সুস্থ মস্তিস্কে অবিশ্বাস করাই কষ্টকর, এটাইত আমাদের বিশ্বাসের স্তম্ভ। পৃথিবীর এমন কোন ধর্ম খুঁজে পাওয়া যায় না বা কেউ বের করতে পারবে না, যে ধর্ম মানুষকে হিংসা-বিদ্বেষ শিক্ষা দেয়। কোনো ধরনের অন্যায় আচরণকে কোনোভাবে সমর্থন করার সামান্যতম সুযোগ নেই কোনো ধর্মে। আর আমার এই বিশ্বাসের সাথে কারো সাথে সমঝোতায় যেতে আমি রাজী নই, তা কেউ গ্রহণ করুক বা না করুক। তবে আমার লেখার তাৎপর্য সুস্থ মস্তিষ্কের কোন মানুষই অগ্রাহ্য করতে পারবে না বলে আমার বিশ্বাস। জনসাধারনের বিশ্বাস, আবেগ, আনুভুতি নিয়ে খেলা করার জন্য এই ধর্ম ব্যবসায়ীদের আবার আলাদা পোশাক থাকে। সব ব্যবসায়ীকেই তার ব্যবসার কল্যাণে নানান সময় নানান বেশ ধরে থাকতে হয়। এই পোশাকটা এমন হয় যাতে সহজেই টার্গেট সাধারনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়।বাংলাদেশ যেহেতু সংখ্যাগরিষ্টের দিক দিয়ে ইসলামী রাষ্ট্র তাই ধর্ম ব্যবসায়ীরা নিজেদের পোশাক হিসেবে বেছে নেয় পাঞ্জাবি, টুপি আর দাড়িকে। এই প্রেক্ষাপটে সৈয়দ ওয়ালিউল্লার ‘লাল সালু’ র কাহিনী বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। ব্যবসার সুবিধার্থে শুধু পোশাকই নয় এই চতুর ব্যবসায়ীরা শুরু করে জোট বাধতে। যে রকমভাবে সকলের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য অনেক দেশ মিলে ব্যবসায়ীক জোট করে, শ্রমিকরা করে শ্রমিক ইউনিয়ন ঠিক তেমনি এই ব্যবসায়ীরাও জোট করেছে যুগে যুগে দেশে দেশে। আর এর সুযোগ যে খোদ ব্রিটিশরাও নিয়েছে, তা হয়তো এ উপ-মহাদেশের কেউই অস্বীকার করতে পারবে না। এই ধর্মের ধজ্জাদারী জোটগুলো হয়ে ওঠে পরাক্রমশালী, হবেই বা না কেন, আমরা যে জুটে যাই পরম নির্ভরতা আর বিশ্বাসের সাথে নিজেকে নিজের জীবনকে সপে দিয়ে তাদের সেবায়। কেউ জানতেও চাই না তারা যা বলছে তার সঙ্গে সত্যের কোন প্রকার সম্পর্ক আছে কিনা, আর জানতে চাইবোই বা কেন? আমরা তো বাস করছি বিশ্বাসের মায়াবী চক্রব্যূহয়ের ভেতরে, যেখান থেকে বের হবার কোন উপায় নেই, সব কিছু জানার-বোঝার কপি রাইট যে দিয়ে দিয়েছি এসব ব্যবসায়ীদের হাতে।

রাসুল (সা.)কে একবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল— কে সত্যিকারের মুসলমান? তিনি বলেছিলেন— ‘যার হাত ও মুখ থেকে অন্য মানুষ নিরাপদ।’ আমরা কজন নিজেকে মুসলমান দাবি করতে পারি? আমাদের হাত ও মুখ থেকে অন্য মানুষ নিরাপদ? আমরা এ দাবি করতে পারি না। কারণ আমরা নামে মুসলমান। ইসলামের যে সত্যিকারের শিক্ষা, সেটা আমাদের অন্তরে প্রবেশ করেছে তা কিন্তু দাবি করতে পারি না। এ দেশে সংখ্যালঘু হলেও উপ-মহাদেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী কিন্তু হিন্দু ধর্মাবলম্বী। হিন্দু ধর্মের সম্বোধন হচ্ছে— ‘নমস্কার’। এর অর্থ: ‘আপনার ভেতর যে ঈশ্বর আছেন তার কাছে আমি মাথানত করছি।’ আমি যদি জানি, আপনার ভেতর ঈশ্বর আছেন তাহলে আমি কী করে আপনাকে ঘৃণা করতে পারি বা আঘাত করতে পারি? ‘নমস্কার’ শব্দের অর্থ কি হিন্দুধর্মালম্বী সবাই জানেন? মুসলমানরা সম্বোধনের সময় বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম’— আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। উত্তরে বলা হচ্ছে, ওলাইকুম উস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ ওয়া বারকাতুহু— আপনার ওপরও শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। ইসলামের শিক্ষা হচ্ছে, আপনি সবসময় শান্তি কামনা করছেন। ইসলামের অন্তর্নিহিত তাত্পর্য হচ্ছে— সবার মঙ্গল কামনা করা। আমরা কি সত্যি সত্যি সবার মঙ্গল কামনা করছি? সালাম দেয়া ও তার উত্তর দেয়া; সবই তো তাহলে লোক দেখানো। সত্যিই আমি যদি মঙ্গল কামনা করি, শান্তি কামনা করি, তাহলে আমি কি অন্যের মাথার ওপর আঘাত করতে পারি? পারি না। ইহুদি ধর্মের দশটা শিক্ষা আছে— এটাকে বলা হয় ‘টেন কম্যান্ডমেন্টস’ বাংলায় বলে ‘দশ অনুজ্ঞা’। অন্য ধর্মাবলম্বীরা হয়তো এটাকে বিশ্বাস করবে না। তবে ইহুদি, মুসলিম এবং খ্রিস্টানরা বিশ্বাস করবে— মুসা নবী তূর পাহাড়ে বা সিনাই পাহাড়ে গিয়েছিলেন, আল্লাহর নির্দেশ তখন একেবারে আগুনের ফুলকি হয়ে পাথরের ওপরে লেখা হয়ে এসেছে। এ দশটি অনুজ্ঞার শিক্ষার ব্যতিক্রম একজন ইহুদির পক্ষে করা উচিত নয়। এর মধ্যে ষষ্ঠ অনুজ্ঞা হচ্ছে— ‘কাউকে হত্যা করো না’। কথাটি যদি ইহুদিরা মানত, তাহলে কি ফিলিস্তিনের মুসলমানদের ওপর নির্যাতন করতে পারত? তারা কি মানুষ হত্যা করতে পারত? ইহুদিদের কাছে একজন অতি শ্রদ্ধেয়, সম্মানী ব্যক্তি হিল্লেলের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ‘তাওরাত অনেক দীর্ঘ, যা আমরা পড়তেও পারব না, বুঝতেও পারব না। আপনি সংক্ষেপে এক লাইনে যদি বলে দেন ইহুদি ধর্মের মূল শিক্ষাটা কী, তাহলে আমাদের জন্য ভালো হয়।’ তিনি বলেছিলেন, ‘অন্যে যে আচরণ করলে তুমি কষ্ট পাও, সে আচরণটা তুমি অন্যের সঙ্গে করো না।’ এটাই ইহুদি ধর্মের মূল শিক্ষা। আজ ইহুদিরা কি হিল্লেলের কথাটা মানে? মানে না। খ্রিস্ট ধর্ম প্রেম, ক্ষমা ও ভালোবাসার ধর্ম। যিশু খ্রিস্টের শিক্ষা হলো— তোমাকে যে ক্ষতি করে তাকেও তুমি ভালোবাসো। কাউকে ঘৃণা করো না, কাউকে ক্ষতি করো না। খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারীরাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পারমাণবিক বোমা ফেলেছিল। যেখানে এমন একটা সময়— জাপান যুদ্ধে হেরে যাচ্ছে এবং আত্মসমপর্ণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখন পারমাণবিক বোমা ফেলা হলো। এটা ফেলতে যে অনুমতি দিয়েছিল, যে পাইলট এটি নিক্ষেপ করেছিল— সবাই খ্রিস্টান ছিল। এরা কি যিশু খ্রিস্টের সত্যিকার অনুসারী হতে পারে? না কি তারা খ্রিস্ট ধর্মের কলঙ্ক? এইসব প্রশ্নের উত্তরের কোন অপেক্ষা নেই। উদাহরণগুলো হয়তো সামান্যতম হলেও প্রত্যকের মনে এক নতুন ভাবোদয়ের সৃষ্টি করবে। নিজের মনের কাছে প্রশ্ন জাগতে পারে, আমরা কি ঘুমিয়ে আছি?

হ্যা, আমরা তো ঘুমিয়েই আছি। আমি আগেই বলেছি মানুষের বিশ্বাস নিয়ে ব্যবসার গতি ও প্রকৃতি দুটোরই পরিবর্তন হয়েছে। এখন আর এ ব্যবসা করতে বিশেষ পোশাক পরতে হয় না, করতে হয় না কোন জোট, শুধু নামের সামনে পেছনে কিছু বিশেষণ হলেই ব্যবসায় ইচ্ছুক যে কেউ এই ব্যবসায় ভাল করতে পারবে। পারবেই বা না কেন, আমরা যে আছি। যুগে যুগে অন্ধ বিশ্বাসের অভ্যাস করতে গিয়ে আমরা এর অনুগত ক্রেতা (Loyal customer) হয়ে গেছি। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের একজন অধ্যাপকের বিশেষ অনুরক্ত এক ছাত্রের সাথে পরিচয় হয়েছিল ইন্টার সার্ভিস সিলেকশন বোর্ডে (ISSB)। চারদিন এক গ্রুপে একসাথে থাকার সুবিধার্থে তার কাছেই শুনেছিলাম তার স্যারের জ্ঞানের মহিমা। মনে মনে খানিকটা অনুরক্ত হয়েছিলামও বটে। গেল কদিন আগে একটা টিভি আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি নিজেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একজন বিশ্লেষক হিসেবে জাহির করে বললেন, “আমাদের এখন চীনের সাথে বন্ধুত্ব করা দরকার, নিউক্লিয়ার অস্ত্র তৈরি ও মজুদ করা দরকার।“ এটি বলার পর অনুষ্ঠানটির সঞ্চালিকা সময়ের অজুহাত দেখিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করেন। আমার মনে হয় না, তিনি ভুলে গেছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতিসংঘে অন্তর্ভুক্তিতে চীনের ভূমিকা, আর তিনি জানেন না নিউক্লিয়ার অস্ত্রের মত ভীতি প্রদর্শক অস্ত্রের মজুদ বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের জন্য কি ভয়াবহ হতে পারে? যে কাজের জন্য ইরানের মত দেশকে প্রায় একঘরে করে রাখা হয়, সে কাজ যে বাংলাদেশের মত দেশের করা উচিত নয়, তা বুঝতে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞ হতে হবে, তা আমি মনে করি না। তবে কেন তিনি এমনটি করলেন? আমরা কিছু বুঝি না, আমরা বুঝি না যে তিনি কোন বিশেষ গোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করতে চেয়েছেন। তবে বুঝতে চেষ্টা করলে হয়তো বুঝতে পারবো, কোন না কোন সময় তিনি এর পুরষ্কার পাবেন।

“দেশের সর্বোচ্চ আইন হচ্ছে সংবিধান, সংবিধানের সাথে সংঘর্ষিক সকল আইন অযোগ্য বলে গণ্য হবে”, এটি জেনেছিলাম ব্যবসায় আইন পড়তে গিয়ে। খুব কষ্ট হয়, মাঝে মাঝে আইনের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারীদের মুখে যখন দেশের আইনের বেইজ্জতি হতে দেখি এই বলে যে মানবতা বিরোধী অপরাধীর জেল কোডের সুবিধা দেওয়া হয় নি বলে তারা ন্যায় বিচার পান নি। আমার মনে হয় না যে, তারা সংবিধানের ৪৭(৩) অনুচ্ছেদ পড়েননি, তবু তারা এমনটি বলেছেন। আমি আইনজ্ঞ নই বা নই আমি আইনের ছাত্র। তাই ৪৭(৩) অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা দিতে চাই না। যে কোন লাইব্রেরীতে মাত্র ৪০ টাকার বিনিময়ে দেশের সর্বোচ্চ আইন কিনতে পাওয়া যায়।

কষ্টের সাথে মাঝে মাঝে হাসিও পায় এই ব্যবসায়ীদের দ্রুত নিজের বিশেষণ পরিবর্তন করতে দেখে। এইতো সেদিন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিবিসির এক সংলাপে আইনের একজন সুপ্রসিধ্য অধ্যাপককে রাজনীতি ও সংবিধান নিয়ে তার যুক্তিতর্ক প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হতে দেখলাম। লক্ষ্য করে দেখলাম তার নামের নিচে লেখা আছে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কিন্তু পরিচিতদের জানা মতে তিনি আন্তর্জাতিক নদী বিশেষজ্ঞ। তিনি অনেক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতেই পারেন তাতে আমার কোন দ্বন্দ্ব নেই। তবে পোশাকের মত স্থান বিশেষে নিজের বিশেষজ্ঞ সাইনবোর্ডটি বদল করা তার ব্যবসা সুলভ আচরণ ছাড়া কিই বা বলা যেতে পারে।

প্রতি বছর আমাদের দেশে সনদধারী লোকের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু শিক্ষিত লোকের সংখ্যা বাড়ছে না। আমরা অনেক বড় বড় ডিগ্রি অর্জন করছি। কিন্তু শিক্ষা বলতে যা বোঝায়, সে শিক্ষা আমাদের অন্তরে প্রবেশ করছে না। আমরা ডিগ্রিধারী, সনদধারী কিন্তু শিক্ষিত না। আমাদের জানার বোঝার ইচ্ছা এখন প্রায় শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে। তাইতো আমাদের মাথায় বারবার টুপি পরিয়ে দেদারছে ইচ্ছেমত ব্যবসায়ীক ফায়দা লুটছে একদল মানুষ। আজ যদি আমরা জেগে থাকতাম, তাহলে আমরা অন্যায়কে ‘অন্যায়’, সত্যকে ‘সত্য’ বলে ভাবতাম। না জেনে না বুঝে আরেকজনের মাথায় আঘাত করতে পারতাম না, ঘৃণা করতে পারতাম না।


প্রকাশিতঃ দৈনিক ইত্তেফাক,ঢাকা, বুধবার, ০৮ জানুয়ারি ২০১৪, ২৫ পৌষ ১৪২০

অনলাইন লিঙ্ক 

How many dies will bring Independence ?

Posted on December 10, 2013 at 10:05 AM Comments comments (0)

আর কত মৃত্যুর পর এ দেশ স্বাধীন হবে?

এক

আজ ১০ ডিসেম্বর, আমি মুক্তাঞ্চলে বসে চা খেতে খেতে এই লেখাটি লিখছি। এখনো স্পষ্ট মনে আছে, ঢাকার সেই কর্ম- ব্যাস্ততা, জ্যামের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা। শুনেছি এখন নাকি ঢাকায় জ্যাম হয় না, সেই পুরনো কর্ম- ব্যাস্ততায়ও পড়েছে ভাটা। আমি চা খাচ্ছি মুক্তাঞ্চলে বসে। কি সুন্দর সকাল! ভোর বলাটা ভুল হবে, আর যাই হোক ১০ টাকে কোনভাবেই ভোর বলে চালাতে ইচ্ছে করছে না। তবুও নিজের ভেতরে কিছুটা সংকীর্ণতা অনুভব করছি, একদিকে পুরো জাতি সংগ্রাম করছে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে। তাদের প্রতিটা ক্ষণ কাঁটছে এক গভীর আশঙ্কায়, এই বুঝি রাস্তায় সাধের প্রাণটা গেল। আর আমি কিনা মুক্তাঞ্চলে সড়ে ন’টায় ঘুম থেকে উঠে চা খেতে খেতে তাদের কথা ভাবছি।  এটা নিজ জাতির উপর উপহাস ছাড়া কিই বা হতে পারে। আমার মত সামান্য মানুষের উপহাসে এমন কি আসে যায়, দিনের পর দিন দেশের নামি দামি বুদ্ধিজীবী, দেশপ্রেমিক, ধর্মপ্রাণ মানুষেরা সাধারণ মানুষের সাথে চা খেতে খেতে যে একই রকম উপহাস করে যাচ্ছে তাতে তো কিছু আসে যায় না। আসলে সবাই দেশ প্রেমিক, কেউ প্রকৃত মানব প্রেমিক নয়। তাতে আমার কি, আমি আছি মুক্তাঞ্চলে।

দুই

এইতো দু’দিন আগে আমার এক সংখ্যালঘু বন্ধু আমার কাছে জানতে চেয়েছিল, কি করে ঢাকা থেকে মুক্তাঞ্চলের দিকে যাওয়া যায়? তার প্রশ্নটা জেনে আমার বেশ আনন্দ হচ্ছিল, বোঝ এবার ঠ্যালা। বন্ধুর শঙ্কায়ও যে আনন্দ আছে তা বাঙালি ছাড়া আর কোন জাতি অনুভব করে কিনা আমার জানা নাই। তবে বাঙালি জাতির এই অনুভব স্বভাব জাত তা আমার ভালভাবেই জানা, এ নিয়ে আমি কোন তর্কের ধার ধারি না। যে জ্ঞান নিজের দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা লব্ধ, তা নিয়ে কোন বিশেষজ্ঞের অযথা প্রলাপ কানে না তোলাই শ্রেয়। এ নিয়ে বিশেষ মাথা নয়া ঘামিয়ে আমার সংখ্যালঘু বন্ধুর প্রশ্নের উত্তরেই মনোনিবেশ করি। প্রথমে কিছুটা আনন্দ বোধ করলেও তাকে দেবার মত উত্তর চিন্তা করে নিজেও খানিকটা চিন্তিত হলাম বটে। কেননা যাত্রা পথের বাকে বাকে যে মৃত্যু ফাঁদ এঁটে আছে তাতে আমার বন্ধুটির প্রাণ সংশয়ও রয়েছে। বন্ধুর মনের সংশয়ে যে আনন্দ পাওয়া যায় তা পুরপুরি মিলিয়ে যায় যদি সেখানে বন্ধুর প্রাণ সংশয় থাকে।

আমি যে মুক্তাঞ্চলে আছি তা ঢাকা থেকে সর্বনিম্ন প্রায় ২৭৫ কিমি দূরে। আর এখনকার সময়ের যাতায়াত ব্যবস্থা অনেকটা ৫০ বছরের পুরনো ব্যবস্থার স্বাদৃশ। সাধারণত এত দুরের পথ যেতে ৫০ বছর আগে আমাদের বাপ দাদারা খুব ভোরে ফজরের ওয়াক্তে রওনা করতেন। খুব আশ্চর্যের ব্যাপার যে, যাতায়াত ব্যবস্থা পুরনো হলেও যাত্রারম্ভের সময়ের মিল রাখাটা খুব একটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে নাএখনকার মৃত্যুদূতেরা মানুষের জান-মালের ক্ষতি করাটাকে একটা পবিত্র পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন। তারা সারা রাত ইবাদাত বন্দেগী করে ফজরের নামায আদায় করেই সাক্ষাৎ যমদূত হয়ে সাধারণ মানুষের যাত্রাপথের আঁকেবাঁকে অপেক্ষা করতে থাকেন, কখন কাকে বেহেশতে পাঠানো যায়। এ দিক থেকে চিন্তা করলে তারা মানব জাতির জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। আমার চেনা এ রকম একজন মহামানব ছিলেন, যিনি অনেক মানুষকে বেহেশতের ভিসা দিতেন। নানির কাছে শুনেছি, তার নাম আর গুনের আনেক গল্প। এ দেশর অনেকে হয়ত তার নাম শুনেছে। তা স্বত্বেও এমন এক মহাপুরুষের নাম উচ্চারণ না করে পারছি না। রজ্জব আলী ফকির নামের সেই শীর্ণ দেহী মহাপুরুষ ছিলেন এক ধর্মপ্রাণ আত্মাতার একটা মহান উক্তি দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে খুবই প্রচলিত, যা কিনা তিনি বেহেশতের ভিসা দেবার সময় উচ্চারণ করতেন- “বাবা তোরও কষ্ট হবে না আমারও কষ্ট হবে না, মাথাটা নিচু কর”।

এই শ্রদ্ধেয় মহামানবদের গুণকীর্তন করতে থাকলে সারাটা দিন কেটে যাবে তার চেয়ে স্ব-প্রসঙ্গে ফিরি। মূল যাত্রা শুরু করতে হবে সকালের বিবিসি সংবাদের পর। যদি সংবাদে ভরসা পাওয়া যায়, তবে রিক্সা করে প্রথমে যেতে হবে সায়দাবাদ। সারা রাস্তায় চোখ কান খোলা রাখতে হবে, আর থাকতে হবে তাৎক্ষণিক দৌড়ের প্রস্তুতি। সায়দাবাদ এসে রিক্সা থেকে নেমে হেটে হেটে যেতে হবে যাত্রাবাড়ী। সেখানে প্রথমে দেখতে হবে আগে কোন সহিংসতা ঘটেছে কিনা, যদি সহিংসতা ঘটে থাকে তবে হিউম্যন হলার বা লোকাল বাস যদি পাওয়া যায় তাতে করে বুড়িগঙ্গা পার হওয়া যেতে পারে। অন্যথায় হেঁটেই বুড়িগঙ্গা পার হওয়া শ্রেয়। তবে এই যাত্রা পথে বাসে চড়াটা যেকোনো সময় বিপদের সামনে দাড় করাতে পারে, তাই বদল করে অটো রিক্সা ব্যবহারই উত্তম। তবে একটাই আশার বিষয় এই যাত্রায় সহযাত্রী হিসেবে পাওয়া যাবে অনেক শংকিত মানুষকে। এই সংকটের সময় সংকটাপন্ন মানুষই একজন আরেকজনের সহায় হয়।

মুন্সিগঞ্জ পার হবার সময় একটু অতিরিক্ত সতর্কতা পালন বাঞ্ছনীয়। সব ঠিকঠাক থাকলে দুপুর ১২ টা নাগাদ পৌঁছে যাওয়া যাবে মাওয়া লঞ্চ ঘাঁটে। লঞ্চ না পাওয়া গেলেও কাওরাকান্দি ঘাঁটে যাবার জন্য একটা ট্রলার নিশ্চয় পাওয়া যাবে। আগত্যা সবাই মিলে পড়িমরি করে এক ট্রলারে ঠাই, যা বিনা নাই অন্য কোন উপায়। মানুষের মনও এক বিচিত্র রহস্যের আঁধার। সব সময়, সব দেশে মানুষ নিজের জীবন বাঁচাতে বেছে নেয় এমন পথ তাতেও থাকে কিনা প্রাণ সংশয়ের সমূহ সম্ভবনা। এর কারণ সম্ভবত মানুষের ঝুকি নেবার প্রবণতা, আর বাছাই করণ নীতি যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘প্রসেস অব এলিমিনেশন’। তবে আশার কথা হল এখন নদী সাধারণত শান্তই থাকে। পদ্মাও ওতটা নির্মম নয় যতটা আমরা হতে পারি।

পদ্মা পেরিয়ে কাওরাকান্দি ঘাট শরীয়তপুর এলাকায় পড়েছে। শরীয়তপুরের পর ফরিদপুর না পেরনো পর্যন্ত নিজেকে মটেই বিপদমুক্ত বলা যায় না। ঘাট থেকে ৫ কিমি দূরে শিবচর বাজার, কে জানে সেখানে কি অপেক্ষা করে থাকবে এই মুক্তাঞ্চল যাত্রীদের। তাই পায়ে হেটে বা ভ্যান- রিক্সা করে সেখানে যাওয়া যেতে পারে। ভাগ্য ভাল হলে সেখান থেকে ডিজেল চালিত ভ্যান পাওয়া যেতে পারে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌঁছাবার জন্য। এর পর অপেক্ষার পালা, যদি কোন যানবাহন পাওয়া যায়- বাস ট্রাক যাই হয় হোক, গোপালগঞ্জ পর্যন্ত যেতে পারলেই কিছুটা স্বস্তি, খানিকটা মুক্তির স্বাদ। তারপর একটা বাধা থাকতে পারে শুধু ফকিরহাট পেরিয়ে নওয়াপাড়ার কাছে কিংবা খান জাহান আলীর মাজার এলাকায়, তবে ও পথ না মাড়িয়ে অন্য বিকল্প পথ ব্যবহার করাই উত্তম। তবুও যতই বন্ধুর হোক এই পথ, শেষে বুক ভরে নিঃশ্বাস নেবার জন্য পাওয়া যাবে মুক্ত বাতাস। জানি না কতদিন পর্যন্ত এই জায়গা মুক্তাঞ্চল থাকবে, পাওয়া যাবে মুক্ত বাতাসের স্বাদ।

তিন

বন্ধুকে এই যাত্রাপথের বিবরণ দিতে গিয়ে মনে হচ্ছে আমি ফিরে গেছি ১৯৭১ সালে, তবে বাস্তবতাটা ১৯৭১ থেকে কিছুটা ভিন্ন। ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে দিকে দিকে মুক্তির উল্লাস শোনা যাচ্ছিল, কিন্তু আজ ১০ ডিসেম্বর ২০১৩ দিকে দিকে বন্দী দশার খবর শোনা যাচ্ছে, শোনা যাচ্ছে শিকল পরানোর শব্দ। ১৯৭১ এর সাথে আরও একটা দিকে কিন্তু খুব মিল দেখা যায়, তা হল একই শোষকের হুঙ্কার। সেই হুঙ্কার আজ আমাদের মর্ম স্পর্শ করে জানান দিচ্ছে, “ঘরে থাকবে তো বেঁচে থাকবে, বাইরে বের হবে তো মরবে”। মাঝে মাঝে খুব হাসি পায়, এ অবস্থায় মানুষকে মরতে ঘর থেকে বের হতে হবে কেন? এদেশের সাধারণ মানুষতো এমনিতেই মরবে, পার্থক্যটা এই যে কেউ না খেয়ে মরবে, কেউ মরবে বিবেকের দংশনে। লক্ষ মৃত্যুর মাধ্যমে জন্মেছিল যে দেশ, সে দেশের মানুষের মৃত্যুর ধারা এখন বন্ধ হয় নি। একটি প্রশ্ন করতে খুব ইচ্ছে করে, আর কত মৃত্যুর পর এ দেশ স্বাধীন হবে? কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার, প্রশ্নটি কার কাছে করব?  এ দেশের কেউই তো মানুষের জীবনের দ্বায় নিতে চায় না। না সরকার, না বিরোধী দল, না কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। যারা প্রকৃত মুক্তির আদর্শে ১৯৭১ সালে স্বেচ্ছায় তাদের প্রাণ দিয়েছিলেন, আমি নিশ্চিত কোন ভাবে আজ তারা বেঁচে থাকলে ঘৃণায় আত্মহত্যা করতেন। তবু সব গ্লানি সহ্য করে আজ এ দেশের সবার কাছে একটি প্রশ্ন করছি, আর কত মৃত্যুর পর এ দেশ স্বাধীন হবে? দেশের দায়িত্ববান মহাশয়বৃন্দ! মনে করুণ প্রশ্নটি আপনার কাছেই করা হয়েছে। আমার উত্তর চাই না, নিজের বিবেকের কাছে উত্তর দিন।



প্রকাশিতঃ দৈনিক ইত্তেফাক, ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৩, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২০ 

অনলাইন লিঙ্ক

Student Politics as Form of the Exchange of Ideas

Posted on February 19, 2010 at 1:50 PM Comments comments (0)

The University system is a breeding ground, often in more than one way, that allows everyone a voice and equal platform. As students, our different backgrounds and hopes are all cast into a melting pot of ideas that must surely bubble and froth with the emergence of opinions.

 

By the time students arrive at university most are fairly articulate in their views or are becoming so. Many have strong political affiliations and are devoted to one religion or none at all. On the surface, students come to university to take class and graduate but this is not the essence of university life by any means. The relationships and exchange of personalities and ideas are what gives us real life. Good friends, late nights and intriguing faculties allow us to become something more than just a beaker into which politicians and TV can flow their convictions.

 

Student politics, in the form of groups and organizations, is a preamble to the connections we must foster in our careers and private lives. The ability to lead, assist and contribute to a cause that we agree with is not only fulfilling but can have far reaching implications. It is with politics that change occurs. Students often change regulations and express grievances through committees and in a democratic manner. Soon enough, the realization that teamwork and diplomacy trumps kindergarten-style brute force, dawns upon students.

 

Discussion of important topics takes place on all university campuses between all walks of life. It is not, or at least should not be, in the spirit of redundancy but in the awareness that we are the future stewards of human civilization and should take that role seriously.

 

Disagreement is the most crucial part of university development. How boldly we challenge the views of other in a respectful way determines whether we will be heard or simply ruled out. On the other hand, the tendency to stay quiet and not opine a view can be equally detrimental to oneself and detract from the conversation overall. We all have strong views on certain topics that others may be wholly ignorant of. It would be undesirable, in this age, to hold knowledge within and never allow others its fruits.

 

Student politics is an initiation into the matters that concern us as a society. It encourages our characters to be whatever it is we chose to be. What we take out of our time in student politics will surely help us form objective opinions and discern more acutely in later life. This frenzy of ideas is at the heart of a health democracy. Being an informed voter or a prudent candidate is in the best interests of the country and, in fact, the world. With better decisions and more interaction we make the world a place in which everyone and everything wants to live. This may be a lofty goal but humans have always aspired to reach that which is unattainable.